Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জমি নিবন্ধনের খরচ কমানোর দাবি রিহ্যাবের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৪

জমি নিবন্ধনের খরচ কমানোর দাবি রিহ্যাবের

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) জমি নিবন্ধনের খরচ কমানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, নিবন্ধন কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও উপকৃত হবেন।

৮ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় রিহ্যাব নেতারা এ দাবি জানান। আবাসন ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট আরো ১২টি সংগঠনও তাদের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন। 

রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভবন নির্মাণ ও জমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূসক দিতে হয়। নিবন্ধন খরচ কমানো হলে ক্রেতাদের চাপ কমবে। তিনি আরো বলেন, গেইন কর, স্ট্যাম্প শুল্ক এবং সব ফ্ল্যাটে ২ শতাংশ মূসক ধার্য করার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, জমির নিবন্ধন খরচ আসলে বিক্রেতার দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এটি ক্রেতার ওপর চাপানো হয়। তিনি এ বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন টাইলসকে বিলাসবহুল পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বর্তমানে টাইলসে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। এটি উঠিয়ে দিলে মূসক ফাঁকি কমে আসবে।

বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন মৌজা মূল্য নির্ধারণের আগে সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানায়। সংগঠনটির সচিব এ কে এম নওশেরুল আলম বলেন, প্রতি শতাংশ জমিতে দেড় লাখ টাকা উৎসে কর দিতে হয়। এটি উঠিয়ে দিয়ে দলিলমূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে নীতিসহায়তার দাবি জানায়। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন রাসায়নিক দ্রব্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দেয়। টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বিএফএলএলইএ এবং প্লাস্টিক ও রাবার জুতা মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও তাদের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে।

প্রবাসীদের জন্য এই দাবি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জমি ও ফ্ল্যাট কেনেন। নিবন্ধন খরচ কমানো হলে প্রবাসীরা আরো বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। এতে দেশের আবাসন খাত যেমন চাঙা হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। জমি ও আবাসন খাতে করের চাপ কমানো হলে প্রবাসীদের আস্থা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।

Logo