দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম আবারো বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটারে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ২৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৭ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম এক দফায় ৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃদ্ধি দেশের বিমান পরিবহন খাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা। মার্চে এই দাম ছিল ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। তার আগে একই জ্বালানি বিক্রি হতো ১১২ টাকা ৪১ পয়সা দরে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দাম ছিল শূন্য দশমিক ৭৩৮৪ ডলার।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই মূল্য বহাল থাকবে।
জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিমান ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পড়তে পারে। একই সঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এতে অনেক এয়ারলাইন্স আর্থিক চাপে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমান পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, জ্বালানি খরচই এয়ারলাইন্স পরিচালনার সবচেয়ে বড় ব্যয়। তাই জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে সরাসরি বিমান ভাড়া বাড়তে বাধ্য। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ খরচ বেড়ে যাবে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে শুধু বিমান পরিবহন নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হবে। কারণ আন্তর্জাতিক রুটে ভাড়া বাড়লে রপ্তানি খাতের পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে।
logo-1-1740906910.png)