মানব পাচার প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৬
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের প্রচারণা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৭ এপ্রিল রাজধানীর রমনা আর্চবিশপ হাউসের পালকীয় কেন্দ্রে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়গুলো উঠে আসে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ’স হাউসের হাউস সুপিরিয়র ফাদার আলবার্ট রোজারিও। তিনি বলেন, সব ধর্মের নেতাদের সমাজে প্রভাব থাকে। তারা মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখান। মানব পাচারের বিরুদ্ধেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা বলেন, মানব পাচার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা। মেয়েরা প্রায়ই পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাসেম্বলি ও ক্লাসরুমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গির্জার প্রার্থনার দিনগুলোতেও এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
সালেসিয়ান সিস্টারস হাউসের ইনচার্জ সিস্টার ফ্লোরেন্স মিতা দাস বলেন, নার্সিং পেশায় বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। বিদেশে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা মানব পাচারের প্রাথমিক ধাপ। তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার ব্লেইস এন্থনী গমেজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়লা শারমিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনেক মানুষ সাগরে প্রাণ হারাচ্ছে। সম্মিলিত চেষ্টায় এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের অধীনে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন চার্চ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে দেশে ও বিদেশে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে বিদেশগামী নারী-পুরুষের মাঝে নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণ, প্রশিক্ষণ ও অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সভায় বক্তারা একমত হন, ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ এবং এনজিওগুলোর প্রচারণা একত্রে মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
logo-1-1740906910.png)