রেকর্ড গড়া মার্চে কোন ব্যাংকে কত রেমিট্যান্স এলো?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্যাটিস্টিকস ডিভিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ মাসে দেশে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মোট প্রবাহ ছিল ৩ হাজার ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা থেকে দেখা যায়, মার্চ মাসে বিভিন্ন শ্রেণির ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবাহের বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক মোট ২৬৭.৭১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে, জনতা ২২১.৬৬ মিলিয়ন, সোনালী ৯৩.২৩ মিলিয়ন এবং রূপালী ৫৭.৩২ মিলিয়ন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একাই ৪৬৪.৭০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করে তালিকার মধ্যে বড় অংশ দখল করেছে।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে যথারীতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স নিয়েছে, মার্চে তাদের মোট সংগ্রহ ৫৮৯.৮৬ মিলিয়ন ডলার। ট্রাস্ট ব্যাংক ২৪৮.৬২ মিলিয়ন, ব্র্যাক ব্যাংক ৩৯৮.৩৬ মিলিয়ন, ডাচ বাংলা ১৯১.২১ মিলিয়ন, সিটি ব্যাংক ১৩৪.৭৩ মিলিয়ন এবং ইস্টার্ন ব্যাংক ১৬৯.৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রবাহিত হয়েছে এবং মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ গঠনে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তালিকায় কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ নগণ্য বা শূন্য পর্যায়ে দেখা গেছে। মার্চে মোট সাতটি ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি; এগুলো হলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও পদ্মা ব্যাংক। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে খুবই কম পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। যেমন- ব্যাসিক ব্যাংক মাত্র ০.৩৩ মিলিয়ন, বিডিবিএল ০.০৩ মিলিয়ন।
বছরভিত্তিক তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স ২৬ হাজার ২০৭.৬১ মিলিয়ন ডলার হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। মার্চ মাসের একক প্রবাহ এই অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সে বড় অংশ যোগ করেছে। ব্যাংকভিত্তিক এই ডেটা প্রবাসী আয় কোথায় বেশি জমা হচ্ছে এবং কোন ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহে সক্রিয়- এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধরন নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। যেখানে কিছু ব্যাংকে বড় পরিমাণ রেমিট্যান্স জমা হচ্ছে, সেখানে সেসব ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে; অন্যদিকে শূন্য বা নগণ্য প্রবাহ থাকা ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক আকর্ষণ ও সার্ভিস উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান নীতিনির্ধারক, ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনীতিবিদদের জন্য রেমিট্যান্স প্রবাহের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে কাজে লাগবে।
logo-1-1740906910.png)