লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটে তারা গিয়েছেন।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। এছাড়া ১৪ জন অভিবাসী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে অভিবাসীদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রত্যাবাসনকালে তিনি অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিবাসীরা জানান, তারা অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের হাতে জিম্মি হন, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করেন। অনেকেই দেশে জমি-জমা বিক্রি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, তাই জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি প্রত্যাবাসিতদের অনুরোধ করেন, যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যাতে কেউ আর ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণ করা জরুরি। বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই এবং দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, দেশে ফিরে অভিবাসীরা যেন সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতারক দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
logo-1-1740906910.png)