ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর পেছনে দালালের প্রলোভন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫০
লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। দালালের প্রলোভনে পরিবারগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করে সন্তানদের ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষমেশ সেই যাত্রা হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর পথ। দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমদ (২৩) তাদের একজন। তার পরিবার দালালকে দুই দফায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছিল। দরিদ্র বাবা আখলুছ মিয়া গরু ও জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু শায়েক আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারান তিনি। একইভাবে জগন্নাথপুরের আরো চারজনকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় দালাল আজিজুল ইসলাম। নিহতদের পরিবার এখন তার বিচার দাবি করছে।
২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৩৮ জনকে নিয়ে একটি রাবারের বোট গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। ছয় দিন সাগরে পথ হারিয়ে খাবারের সংকটে পড়ে যাত্রীরা। একে একে ১৮ জন মারা যান। লাশগুলো দুই দিন বোটে থাকার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুরের পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজারের একজন ছিলেন। ২৭ মার্চ গ্রিস উপকূলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকৃতদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা তরুণদের ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। অনেক পরিবার ধারদেনা করে বা জমিজমা বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে। একেকজনের জন্য ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। কেউ ইচ্ছায়, কেউ বাধ্য হয়ে সন্তানদের অবৈধ পথে পাঠান।
দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের তিনজনও একইভাবে মারা গেছেন। তাদের লিবিয়ায় পাঠিয়েছিলেন দালাল জসিম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ চক্রের একাধিক প্রতিনিধি এলাকায় সক্রিয়।
বোগলাবাজার ইউনিয়নের ফাহিম আহমদ (২০)ও একই বোটে মারা যান। তার মামা জামাল উদ্দিন ও আবদুর রহিম ওরফে জসিম উদ্দিন লিবিয়ায় থেকে লোক পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই দালালের ফাঁদে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাচ্ছেন। এতে পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, অর্থও নষ্ট হচ্ছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, ইউএনওরা দালালদের তালিকা তৈরি করে পুলিশকে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসন রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)