বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য ও উন্নত দেশগুলো থেকে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আয় অত্যন্ত সীমিত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স আয় ছিল ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সার্ক দেশগুলো থেকে এসেছে মাত্র ১৫৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, যা মোট আয়ের এক শতাংশেরও কম।
সার্ক দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ থেকে আসা রেমিট্যান্সই সবচেয়ে বেশি। মোট সার্ক রেমিট্যান্সের ৮৯ শতাংশ এসেছে মালদ্বীপ থেকে। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন, বিশেষ করে নির্মাণ ও সেবা খাতে। ফলে মালদ্বীপ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠেছে।
ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকেও কিছু রেমিট্যান্স আসে, তবে তা খুবই সীমিত। এসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রেমিট্যান্স আয়ও নগণ্য। অন্যদিকে পাকিস্তান থেকেও কিছু রেমিট্যান্স আসে, কিন্তু তা বাংলাদেশের মোট আয়ের তুলনায় খুবই সামান্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি বড় অবলম্বন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেমিট্যান্সের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে আসা রেমিট্যান্সই মূলত দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। সার্ক দেশগুলো থেকে আয় কম হলেও মালদ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে বৈচিত্র্যময় করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার্ক দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হলেও মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তবে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে না। ভবিষ্যতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)