বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজের জন্য নিরাপদ চলাচলের নথি সংগ্রহে কাজ করছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে বাংলাদেশসহ বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর জাহাজকে নিরাপদ পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা লিখিত নিশ্চয়তা চাইছি। নিশ্চিত না হলে জাহাজ পাঠানো হবে না।”
বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও চলতি মার্চে সংঘাতের কারণে তা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
১৫ মার্চ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের কাছে জ্বালানি বহনকারী জাহাজের তালিকা পাঠায়। এপ্রিলে ছয়টি জাহাজে প্রায় পাঁচ লাখ টন এলএনজি এবং ৭৯ হাজার টন ক্রুড ওয়েল পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানের আশ্বাসে বাংলাদেশ কাতার, ওমান, সৌদি আরব, চীন ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ লিখিত নিশ্চয়তা চাইছে, বিশেষ করে ক্রুড ওয়েল বহনকারী নর্ডিক পলাক্স নামের জাহাজ পাঠানোর আগে। এছাড়া একটি তুর্কি জাহাজ ভাড়া করার পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্রান্স ইতোমধ্যেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা মিশন নিয়ে ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ইরানের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের এই আশ্বাসে জ্বালানি আমদানির খরচ কিছুটা কমাবে এবং স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থেকে যাবে।
logo-1-1740906910.png)