Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬

হরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুরাষ্ট্র এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই জলপথ খোলা থাকবে। তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান।  

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর ইরান প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।  

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত দাবি যে প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ, তা সত্য নয়। তিনি জানান, অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে এবং যাদের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয় বা বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

আরাগচি আরো বলেন, “চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত ইতোমধ্যেই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভারতের দুটি জাহাজ সম্প্রতি এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশও এ তালিকায় রয়েছে।”  

তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, যারা যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে পারবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচিগামী জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর সেটিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেয়।

বর্তমানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে। কিন্তু মার্চ মাসে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাস পরিবাহী ট্যাংকার।  

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট; সবখানেই খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। অনেক সরকার এখন করোনা মহামারির সময়কার মতো জরুরি সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে।

Logo