মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যতই জটিল আকার ধারণ করছে, বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ওপর ততই চাপ বাড়ছে। কারণ, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে উপসাগরীয় ছয় দেশ থেকে। যদিও যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় আসার গতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকেই দেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট রেমিট্যান্সের ৪৫ শতাংশ এসেছে এই ছয় দেশ থেকে। দ্বিতীয় প্রান্তিক অক্টোবর-ডিসেম্বরে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে। করোনাকালে ২০২০-২১ অর্থবছরে এ হার ছিল ৬০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ৮৬৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় ছয় দেশ থেকে এসেছে ৪৮০ কোটি ডলার। সৌদি আরব থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩১ কোটি এবং ইউএই থেকে ১১৮ কোটি ডলার। ওমান থেকে এসেছে ৫১ কোটি, কাতার থেকে ৪২ কোটি, কুয়েত থেকে ৪৪ কোটি এবং বাহরাইন থেকে ২৩ কোটি ডলার।
এই ছয় দেশের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এসেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, যা মোট আয়ের ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ বা ১৭০ কোটি ডলার। এ ছাড়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এসেছে ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে।
প্রবাসী আয় বাড়ার বড় কারণ হলো এসব দেশে নতুন শ্রমিক যাওয়ার হার বেশি। গত বছর দেশ থেকে মোট ১১ লাখ ১৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষ বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার। কাতারে গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার, ইউএইতে ১৩ হাজার এবং কুয়েতে ৪০ হাজার। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, ইউএইতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী আছেন।
তবে যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালানোর পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধ চললেও ঈদের আগে প্রবাসী আয় আসার গতি ছিল আশাব্যঞ্জক। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে মোট ২২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহেই এসেছে ১১৩ কোটি ডলার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে।
logo-1-1740906910.png)