Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

উদ্বেগ ও আতঙ্কে বাহরাইন প্রবাসীদের ঈদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ২৩:৫০

উদ্বেগ ও আতঙ্কে বাহরাইন প্রবাসীদের ঈদ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ গড়িয়েছে তিন সপ্তাহের বেশি। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র না হলেও এর আঁচ পৌঁছেছে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও। ফলে সেখানে থাকা দেড় লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর ঈদ কেটেছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগে।  

চাঁদরাত থেকেই সাইরেনের শব্দ, হামলার গুজব আর নিরাপত্তা শঙ্কায় ঘুম হয়নি অনেকের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুরুল আমিন, যিনি বাহরাইনে ক্লিনিং সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন, বললেন- “আমরা শান্তিতে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে যে কোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে। ঈদের দিনেও সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন যুদ্ধ থেমে যায়।”  

সিলেটের আব্দুল মালেক গাড়ি চালকের কাজ করেন। তিনি জানান, “চাঁদরাত ছিল আতঙ্কের, ঈদের দিনও সবাই দ্রুত বাসায় চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বড় কিছু হতে পারে।”  

যুদ্ধের কারণে অনেকের কর্মস্থল সাময়িকভাবে বন্ধ, কারো কাজ কমে গেছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কুমিল্লার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক দিন ধরে। হাতে টাকা কমে যাচ্ছে, দেশে পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি। ঈদের দিনেও কোনো আনন্দ নেই।”

নরসিংদীর রাকিব হোসেন সুপারশপে কাজ করেন। তিনি জানান, “রাত হলেই ভয় লাগে। পরিবার ফোন করে কাঁদে, বলে দেশে ফিরে যেতে। কিন্তু এখন ফ্লাইটও ঠিকমতো নেই। ঈদের দিনেও মনে হচ্ছে আমরা বন্দি হয়ে আছি।”  

চট্টগ্রামের শাহীন আলম মানামার একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। তার ভাষ্য, “রমজান আর ঈদের দিনেও ব্যবসা নেই। মালিকও দুশ্চিন্তায়; কীভাবে বিল, ভাড়া দেবে, কেউ জানে না।”  

মাদারীপুরের সোহেল রানা, পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান, বললেন- “প্রতিদিন খবর দেখি, ভয় পাই। পরিবার বলছে ফিরে আসতে, কিন্তু এত বছর পর সব ছেড়ে যাওয়া কঠিন। ঈদের দিনও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই।”  

বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা মাজহারুল ইসলাম বাবু বলেন, “আসলে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কারো সঠিক ধারণা নেই। তবে বাহরাইন সরকারকে ধন্যবাদ, তারা স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও সাপোর্ট দিচ্ছে। পর্যাপ্ত শেল্টারের ব্যবস্থা আছে।” তিনি প্রবাসীদের গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানান।  

বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রইস হাসান সরোয়ার ঈদের দিন প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন খোলা রয়েছে।

Logo