দুই সপ্তাহে রেকর্ড রেমিট্যান্স, সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে কৃষি ব্যাংক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২
বাংলাদেশে প্রবাসী আয় প্রবাহের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে অনেকেই সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক একাই সংগ্রহ করেছে প্রায় ২৭২.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংক দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে।
এর বাইরে অগ্রণী ব্যাংক পেয়েছে ১৬৪.৫২ মিলিয়ন, জনতা ব্যাংক ১২৯.৯২ মিলিয়ন এবং সোনালী ব্যাংক ৬৩.০৮ মিলিয়ন ডলার।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে, যার পরিমাণ ৩৯৫.২৯ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যেখানে এসেছে ২২৮.২৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক পেয়েছে ১৬২.৫৩ মিলিয়ন, সিটি ব্যাংক ৭৫.৬২ মিলিয়ন এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১১৫.৩১ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে সরকারি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ৩৭২.৪৯ মিলিয়ন, বিশেষায়িত ব্যাংকে ২৭২.৮৮ মিলিয়ন এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ১,৫৫৪.৫৬ মিলিয়ন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এসেছে মাত্র ৪.৫৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২,২০৪.৪৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছরের মার্চ মাসে একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এবার দুই সপ্তাহেই এসেছে অতিরিক্ত ৫৮ কোটি ডলার। ব্যাংকাররা বলছেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান। এবারো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৬৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৬০ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২৯ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে প্রবাসীদের জন্য আরো প্রণোদনা ও সহজতর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)