Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অভিবাসী নিয়োগে দুর্নীতিই মূল বাধা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩

অভিবাসী নিয়োগে দুর্নীতিই মূল বাধা

বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের শোষণ বহুদিন ধরেই আলোচনায়। সম্প্রতি ব্লুমবার্গের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগপ্রক্রিয়া রাজনীতিতে যুক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধনী করছে, আর শ্রমিকদের ঋণ, শোষণ ও বাধ্য-শ্রমের চক্রে আবদ্ধ করছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশিদের অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দিতে হয়।  

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়ার শাসকগোষ্ঠী নিয়োগপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার সম্পর্কে জানলেও সমাধান করেনি। কারণ উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের বড় অংশ দুই পক্ষের পকেটে যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও বলেছেন, এতে বহু স্তরের মানুষ জড়িত। প্রতিবেদনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান আমিনুল ইসলামকে বেস্টিনেটের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়া মাত্র ১০টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়, যা সিন্ডিকেট গঠনের পথ খুলে দেয়।  

বিশ্লেষক চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, যখন সংগঠিতভাবে শোষণ করা হয়, তখন বিষয়টি আর নীতি নয়, বরং অপরাধে পরিণত হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা পাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও কাঠামোগত শোষণের শিকার হচ্ছেন। তিনি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত নিয়োগপ্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন, যেখানে নিয়োগ ফি নিয়োগকর্তা বহন করবে।  

অতীতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জি টু জি পদ্ধতিতে নিয়োগ ছিল শ্রমিকবান্ধব। ২০১২ সালের সমঝোতা স্মারকের আওতায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকায় একজন শ্রমিক মালয়েশিয়া যেতে পারতেন। এতে কোনো এজেন্সি জড়িত ছিল না এবং অনলাইনে নিয়োগ হওয়ায় শোষণের সুযোগ ছিল না। ২০১৩ সালে প্রথম দলটি নিরাপদে মালয়েশিয়া পৌঁছায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের চাপের কারণে এ ব্যবস্থা বাতিল হয়।  

২০১৬ সালে ‘জিটুজি প্লাস’ নামে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে মাত্র ১০টি এজেন্সির সিন্ডিকেটকে সুযোগ দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে নতুন সমঝোতা হলেও বাস্তবে তা শ্রমিকবান্ধব হয়নি। বরং ১০০ এজেন্সির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে এ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়।  

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিন্ডিকেটের শোষণে শ্রমিকরা কোটি কোটি টাকা হারিয়েছেন। রুহুল ইসলাম স্বপন ও আমিনুল ইসলামকে এ চক্রের অন্যতম কুশীলব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাদের প্রশ্রয় দিয়েছেন দুই দেশের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যক্তিরা।  

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি আবুধাবি ডায়ালগে অভিবাসনের ক্ষেত্রে নৈতিক নিয়োগ ও শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় স্থায়ী ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু করতে হবে। ২০১২ সালের জিটুজি পদ্ধতির মতো ন্যূনতম ব্যয়ের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করলে শ্রমিকরা শোষণ থেকে মুক্তি পাবেন।

Logo