মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ইমাম, আলেম- ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুস ছালাম খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ অভিবাসন অত্যন্ত জরুরি। সারাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ মসজিদ আছে। এসব মসজিদের ইমামরা খুতবায় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে আলোচনা করলে সচেতনতা বাড়বে।”
১১ মার্চ সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরো জানান, তার নিজ জেলা মাদারীপুরে অনেকেই ইতালি যেতে চান, কিন্তু নিরাপদ পথ না বেছে ভুল পথে গিয়ে বিপদে পড়েন। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও আলেমরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান মূল প্রবন্ধে বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বৈধভাবে বিদেশে যান। কিন্তু অনেকেই সাগরপথে অনিয়মিতভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে প্রাণহানি ও নিপীড়নের শিকার হন। তিনি বলেন, “এই পাচার বন্ধ করা জরুরি। এ জন্য আমরা সচেতনতা তৈরির কাজ করছি, যেখানে ইমাম ও আলেমরা বড় শক্তি হতে পারেন।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন। আরো বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার এবং দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মাওলানা উপস্থিত ছিলেন। তারা মানব পাচার ও মানব চোরাচালান প্রতিরোধে এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অঙ্গীকার করেন।
logo-1-1740906910.png)