ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাময়িক ঝড় নয়, বরং ভূমিকম্পের মতো ধাক্কা দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের প্রভাব মূলত তিনটি মাধ্যমে আসবে— জ্বালানি, ডলার এবং বাণিজ্য।
তিনি বলেন, ঝড় বা বন্যা সাময়িক ক্ষতি করে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। কিন্তু ভূমিকম্প ভেতরের কাঠামো নষ্ট করে দেয়, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে, সেটিই ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করবে।
ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭২ ডলার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো নতুন বুকিং বন্ধ করেছে। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করেছে এবং জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খরচও বেড়ে যাবে। সরকারকে হয়তো বাড়তি ভর্তুকি দিতে হবে অথবা দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপাতে হবে।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছর ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে খাদ্য ও পরিবহন খরচ আরো বাড়বে। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন চাপ এ অবস্থাকে আরো জটিল করতে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে। জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে গেলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়বে এবং টাকার ওপর অবমূল্যায়নের চাপ তৈরি হবে। এতে আমদানি পণ্যের দাম আরো বাড়বে।
প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিক সংঘাত তীব্র হলে কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দেবে।
সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে জরুরি প্রস্তুতি নিতে হবে। বৈদেশিক অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে হবে এবং বিশ্বব্যাংক বা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাজেটীয় সহায়তা বা আমদানি ক্রেডিট সুবিধা নিতে হবে।
logo-1-1740906910.png)