Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ার শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৬

রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজার, আকাশপথ, যোগাযোগ এবং প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতার ওপর। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে।  

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মরত, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি, আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি শ্রমিকদের সংকটে ফেলছে। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।  

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শাহজালাল থেকে ১৭৬টি এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় ৫৫ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই প্রবাসী শ্রমিক। অনেকের ভিসা বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে তারা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। কাতার সরকার ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও অন্য দেশগুলো এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর বড় অংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। অর্থাৎ এই অঞ্চলে বড় ধাক্কা লাগলে সরাসরি প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে নির্মাণ, অবকাঠামো ও সেবা খাতের প্রকল্প ধীর হবে। এতে শ্রমিকদের কাজের সময় কমে যাবে, ওভারটাইম বন্ধ হতে পারে কিংবা চুক্তি নবায়ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আধাদক্ষ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা।  

বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা শ্রমিকদের অবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই তিন থেকে চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন চাকরির জন্য। কিন্তু আকাশপথ বন্ধ থাকায় তারা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। এতে ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শ্রমিকরা বড় ঝুঁকিতে পড়েছেন।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স কমে গেলে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। স্থানীয় ব্যবসা, ভোগব্যয় এবং ব্যাংকিং খাতেও চাপ তৈরি হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংকট কাটিয়ে শ্রমবাজার আবার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের উচিত শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো।  

সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ সেল গঠন করেছে, যেখানে ভিসা বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Logo