আসছে ঈদ, অথচ দেশের এক কোটি প্রবাসীর জীবন ও কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিলে দেশের বহু পরিবার মাসিক বাজেটে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স কমে গেলে টিকে থাকতে এখনই বিকল্প সঞ্চয় ও জরুরি তহবিল গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে প্রবাসী আয় ওঠানামা করে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান, মজুরি বা কর্মঘণ্টা কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশে থাকা পরিবারের নগদ প্রবাহে। যেসব পরিবার একমাত্র প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আয় স্বাভাবিক থাকলেও আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আয় কমে গেলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিকল্পনা থাকলে পরিবার আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে পারে।
প্রথমেই খরচের তালিকা পর্যালোচনা করা দরকার। স্থায়ী ব্যয় যেমন বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা অগ্রাধিকার পাবে। ভ্রমণ, উৎসব বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা উচিত। এভাবে অন্তত তিন মাসের ন্যূনতম খরচ হিসাব করে রাখা ভালো।
জরুরি তহবিল গঠনও অত্যন্ত জরুরি। তিন থেকে ছয় মাসের সমপরিমাণ খরচ আলাদা করে জমানো উচিত। একবারে সম্ভব না হলে প্রবাসী আয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আলাদা হিসাবে রাখা যেতে পারে। আলাদা ব্যাংক হিসাব বা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখলে খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
এক উৎসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরতা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অন্য সদস্যরা আংশিক আয় করতে পারেন কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। ঘরে বসে কাজ, ছোট ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক সেবা মাসিক ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।
ঋণের চাপ কমানোও জরুরি। উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড থাকলে আগে সেটি পরিশোধের পরিকল্পনা করতে হবে। সুদের বোঝা কমলে নগদ প্রবাহে স্বস্তি মিলবে।
প্রবাসফেরতের ঝুঁকি মাথায় রেখে এককালীন সঞ্চয় পুরোটা খরচ না করে ভাগ করে ব্যবহার করা উচিত। এক অংশ জরুরি তহবিলে, এক অংশ আয়বর্ধক খাতে বিনিয়োগ এবং বাকি অংশ নিরাপদ আমানতে রাখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘ হলে রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগতে পারে। তাই পরিবারগুলোকে এখনই বিকল্প কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ প্রবাসী আয় শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, এটি লাখো পরিবারের জীবনধারণের অবলম্বন।
logo-1-1740906910.png)