Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের জন্য স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩

বাংলাদেশিদের জন্য স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান স্থগিত ঘোষণা করেছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হলেও পর্যটন বা ভিজিটর ভিসা (নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) আগের মতোই চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দেশটির সরকারি বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ কমাতে এবং স্বনির্ভর অভিবাসীদের উৎসাহিত করতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, রাশিয়া, মিয়ানমার, মিসর ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো এই স্থগিতাদেশের তালিকায় রয়েছে।

তবে ভিসা স্থগিত হলেও আবেদনকারীদের জন্য আশার কথা হলো, অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বা সাক্ষাৎকার এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই ৭৫টি দেশের ভিসাপ্রার্থীরা আগের মতোই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়মিতভাবে এসব সাক্ষাৎকারের সময়সূচিও প্রদান করবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল থাকলেও চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রদানের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল এবং কলম্বিয়াও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশী বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। বিশেষ করে যারা ডিভি লটারি বা পারিবারিক কোটায় ভিসার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অভিবাসন আইনের পরবর্তী পরিবর্তন বা নতুন কোনো নির্দেশনার দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

Logo