মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: শঙ্কায় প্রবাসীরা, উৎকণ্ঠিত স্বজন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা ও ক্রমবর্ধমান অস্থিরতায় চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সেখানে কর্মরত প্রায় অর্ধকোটি বাংলাদেশি প্রবাসী। ইরান, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত কর্মীরা প্রতিনিয়ত সাইরেনের শব্দ আর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এক ধরনের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। অন্যদিকে দেশে থাকা তাদের পরিবার ও স্বজনরা টেলিভিশন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রেখে প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন গভীর উদ্বেগে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের বিমানবন্দরে আটকে পড়া হাজারো যাত্রীর ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় প্রশাসন থেকে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওমান প্রবাসী নাজমুল হাসান ও আরব আমিরাত প্রবাসী নাহিদ ইসলাম জানান, কোম্পানিগুলো থেকে তাদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে এবং সাইরেন শুনলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নওগাঁর বাসিন্দা আনিসুর রহমান তার বাহরাইন প্রবাসী ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই শঙ্কিত যে, প্রয়োজনে দেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে ছেলেকে নিরাপদে রাখার আকুতি জানিয়েছেন। প্রবাসীদের এমন দুশ্চিন্তার মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েত, কাতার, আমিরাত, বাহরাইনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ২৪ ঘণ্টা কার্যকর হটলাইন নম্বর চালু করেছে।
এদিকে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় ৬০টিরও বেশি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। চরম ভোগান্তিতে পড়া এসব যাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। শনিবার রাতে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সশরীরে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তদারকি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আট শতাধিক যাত্রীর জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সিলেট থেকে আসা ওমানগামী যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে বিশেষ এসি বাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুয়েত বিমানবন্দরে হামলায় আহত তিন বাংলাদেশির চিকিৎসা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করছে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই সংকটময় সময়ে দূতাবাসগুলোর ভূমিকা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। রামরুর প্রতিষ্ঠাতা তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, প্রবাসীদের সুরক্ষায় দূতাবাসগুলোকে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর জানান, পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশন, কূটনীতিক এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
logo-1-1740906910.png)