Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফ্লাইট বাতিলে যাত্রীদের করণীয় কী?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:০৪

ফ্লাইট বাতিলে যাত্রীদের করণীয় কী?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক হাজার যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে বা দেশের বিমানবন্দরে আটকা পড়লে একজন যাত্রীর কী কী করণীয়, তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। আকাশসীমা বন্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি অবস্থায় ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের অধিকার এবং করণীয় সম্পর্কে সিভিল এভিয়েশন ও এয়ারলাইন্স বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কাজ হলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ডেস্ক বা কাউন্টারে যোগাযোগ করা। অধিকাংশ এয়ারলাইন্স তাদের যাত্রীদের পরবর্তী উপলব্ধ ফ্লাইটে বিনা খরচে বুকিং (Re-booking) দেওয়ার সুযোগ দেয়। যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে আকাশসীমা দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ, তবে যাত্রীরা চাইলে টিকিটের পূর্ণ অর্থ ফেরত বা ‘ফুল রিফান্ড’ দাবি করতে পারেন। অনেক এয়ারলাইন্স অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে সমমূল্যের একটি ‘ভাউচার’ প্রদান করে, যা পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ব্যবহার করা যায়। তবে রিফান্ডের ক্ষেত্রে ট্রাভেল এজেন্সি না কি সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হয়ে যথাযথ মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

বিমানবন্দরে থাকা অবস্থায় যদি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খাবার এবং পানীয় সরবরাহ করা এয়ারলাইন্সের দায়িত্ব। যদি ফ্লাইটটি পরের দিন বা তারও পরে পুনরায় নির্ধারণ করা হয়, তবে যাত্রীদের জন্য আবাসন বা হোটেলের ব্যবস্থা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে যে সংকট চলছে, সেখানে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের লাউঞ্জে যোগাযোগ করে থাকা-খাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়া ভিসা জটিলতা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি থাকলে দ্রুত বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ডেস্কে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

যারা ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রী বা কানেক্টিং ফ্লাইট মিস করেছেন, তাদের জন্য এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষই বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করবে। এই পরিস্থিতিতে ‘ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স’ বা ভ্রমণ বিমা করা থাকলে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। বিমা থাকলে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের কারণে হওয়া লোকসানের একটি অংশ দাবি করা সম্ভব। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিমার সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

সবশেষে, বিমানবন্দরে অযথা ভিড় না করে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নজর রাখা জরুরি। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়। ফ্লাইট বাতিল হওয়া মানেই টিকিট বাতিল হওয়া নয়; তাই ধৈর্য ধরে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করলে ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

Logo