কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের সময় ৪৩ জন নারী ও ১৯ শিশুসহ মোট ১৫৩ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমের গভীর সমুদ্রে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রলারের মাঝিমাল্লাসহ ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১ মার্চ দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে একটি বড় ট্রলারে করে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৩টার দিকে কোস্টগার্ডের জাহাজ 'কামরুজ্জামান' বিশেষ অভিযান শুরু করে। সন্দেহভাজন একটি ট্রলারকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও সেটি অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে ট্রলারটিকে আটক করেন। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, গাদাগাদি করে ট্রলারের ভেতরে নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন অবস্থান করছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৯১ জন পুরুষ, ৪৩ জন নারী এবং ১৯ শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
আটককৃত ১৫ জন পাচারকারীর বিস্তারিত পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা টেকনাফ ও মহেশখালী ভিত্তিক একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্রের সদস্য। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টেকনাফের লিয়াকত আলীকে, যার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মানব পাচারের মামলা রয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের মধ্যে ট্রলারের চালক হারুন ও সহযোগী কালামসহ ১৫ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, উন্নত জীবন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বল্প খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সাধারণ মানুষকে জড়ো করেছিল। তাদের মূলত সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ১৫ জন পাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় মানব পাচার রোধে কোস্টগার্ডের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। পাচারকারী চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ পথে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বিদেশ যাত্রা রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং দালালের প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
logo-1-1740906910.png)