Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন আরো ২৯ বাংলাদেশি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫২

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন আরো ২৯ বাংলাদেশি

ছবি সংগৃহিত

অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ ভাড়া করা ফ্লাইটে আরো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের জরুরি সহায়তা এবং বাড়ি ফেরার জন্য পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হয়।

ফেরত আসা অভিবাসীদের তথ্যে উঠে এসেছে মানব পাচারের এক ভয়াবহ চিত্র। তাদের অধিকাংশেরই যাত্রা শুরু হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল থেকে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে তারা বৈধভাবে ব্রাজিল গেলেও পরবর্তী সময়ে দালালদের প্রলোভনে পড়ে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে একেকজন অভিবাসীর খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তাদের দেশে পাঠানো হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩২২ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজকের এই ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন এবং ঢাকার ৭ জনসহ কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও সিলেটের নাগরিকরা রয়েছেন। বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যাদের বড় অংশই নোয়াখালী অঞ্চলের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্রাজিলকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার একটি ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন দালালরা। ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের কেউ এক বছর জেল খেটেছেন, আবার কেউ বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়ে রিক্ত হস্তে দেশে ফিরেছেন।

এই গণ-প্রত্যাবাসনের ঘটনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিএমইটি যে শত শত কর্মীকে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমোদন দিচ্ছে, তারা সেখানে প্রকৃত কর্মসংস্থান পাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Logo