Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মক্কা-মদিনায় আটকা হাজারো ওমরাহযাত্রী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৬

মক্কা-মদিনায় আটকা হাজারো ওমরাহযাত্রী

ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া আকস্মিক সামরিক সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন করতে যাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ছয়টি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওমরাহযাত্রীরা এখন আবাসন, খাবার এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন। অনেক যাত্রী হোটেল থেকে চেক-আউট করার পর নতুন করে থাকার জায়গা না পেয়ে হোটেল লবি বা করিডোরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ঢাকাগামী ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো স্থগিত হওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউএস-বাংলার যে ফ্লাইটটি আজ ঢাকা থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল, সেটি ঢাকা ত্যাগ করতে না পারায় ফিরতি যাত্রীদের নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অনেকেই সাথে থাকা নগদ অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের নিয়ে আসা পরিবারগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়; অনেকেরই নিয়মিত সেবনের ওষুধ ফুরিয়ে এসেছে কিন্তু স্থানীয়ভাবে তা সংগ্রহের উপায় পাচ্ছেন না। মক্কা থেকে মো. জাকির হোসেন নামে এক যাত্রী জানিয়েছেন, তাদের ৩০ জনের একটি দল বর্তমানে খোলা জায়গায় অবস্থান করছে এবং ফ্লাইটের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছে না।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এসএমএস বা ইমেলের মাধ্যমে যাত্রীদের ফ্লাইটের আপডেট জানিয়ে দেয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ করেছে। তবে সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা অভিযোগ করছেন, সেখানে এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশানুরূপ কোনো সহায়তা বা সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এই মানবিক সংকটে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি ভিত্তিতে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিসার মেয়াদের জটিলতা নিরসন, অস্থায়ী আবাসন এবং খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিশ্চিত না হওয়ায় এই অনিশ্চয়তা আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বা উদ্ধারকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করা হলে কয়েক হাজার বাংলাদেশির দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

Logo