পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি এবং আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত হওয়ার সময়। এই মাসে সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবান ব্যক্তিরা জাকাত এবং সদকার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সচেষ্ট থাকেন। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব, সময়ের অভাব এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেক সময় প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি বা দেশের অভ্যন্তরে ব্যস্ত মানুষেরা সঠিক জায়গায় অনুদান পৌঁছে দিতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে জাকাত ও অনুদান সংগ্রহের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
বিকাশের এই উদ্যোগের ফলে এখন দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে তো বটেই, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ অসহায় মানুষের কল্যাণে পাঠাতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের সুবিধার্থে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজবোধ্য করে তৈরি করা হয়েছে। অনুদান প্রদানের জন্য একজন গ্রাহককে প্রথমে তার বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে ‘ডোনেশন’ আইকনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে দেশের স্বনামধন্য সব চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়া যাবে। গ্রাহক নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে সেখানে তার অনুদান প্রদান করতে পারবেন।
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে গ্রাহককে তার নাম, ই-মেইল ঠিকানা এবং অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ করে সাবমিট করতে হবে। এখানে গোপনীয়তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কোনো দাতা যদি তার পরিচয় প্রকাশ করতে না চান, তবে তিনি ‘আমি আমার পরিচয় শেয়ার করতে চাই না’ অপশনটি নির্বাচন করতে পারবেন। এতে দাতার পরিচয় গোপন রেখেই অনুদানটি গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। সবশেষে পিন নম্বর দিয়ে লেনদেনটি নিশ্চিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘আপনার অনুদান সফল হয়েছে’ মর্মে একটি ডিজিটাল প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাওয়া যাবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সহায়তা করে।
ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে মানুষের ইচ্ছা এবং সামর্থ্যের মধ্যে থাকা দূরত্ব ঘুচে গেছে। আগে যেখানে সঠিক প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা বা সশরীরে গিয়ে টাকা জমা দেওয়া ছিল কঠিন কাজ, এখন তা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুস্থদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় করা হচ্ছে। বিকাশের এই আধুনিক পদ্ধতিটি কেবল সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তাই করছে না বরং সমাজের বিত্তবান ও অভাবী মানুষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। সময়ের চাহিদায় এমন প্রযুক্তিভিত্তিক মানবিক উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
logo-1-1740906910.png)