বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে নানা পথ ব্যবহার করেন। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল থাকলেও অনেকেই হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠান। প্রশ্ন হলো কেন তারা এই পথ বেছে নেন?
প্রবাসীরা জানান, বৈধ পথে টাকা পাঠাতে হলে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হয়। কিন্তু অনেকেরই রেসিডেন্ট পারমিট নেই, ফলে তারা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন না। আবার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে গেলে নানা ধাপ পার হতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো অনেক সহজ, শুধু বিকাশ নম্বর দিয়ে দোকানিকে জানালেই দেশে পরিবার টাকা পেয়ে যায়।
বৈধ পথে টাকা পাঠানোর আরেকটি সমস্যা হলো চার্জ। সৌদি সরকারের অনুমোদিত অ্যাপ যেমন এসটিসি ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট চার্জ কেটে রাখা হয় এবং সরকারি রেটেই টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে অনেক সময় বেশি রেট পাওয়া যায়, যা প্রবাসীদের আকৃষ্ট করে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈধ পথে টাকা পাঠানো কঠিন হওয়ায় প্রবাসীরা অবৈধ পথ বেছে নেন। হুন্ডি বন্ধ করতে হলে বৈধ পথকে সহজ করতে হবে। যেমন- বিদেশে ব্যাংক একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, দূতাবাসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রতিষ্ঠানকে বৈধতার সার্টিফিকেট দেওয়া, প্রবাসীদের পরিবারকে ব্যাংক একাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা ইত্যাদি।
সরকারি হিসাব বলছে, বৈধ পথে যত টাকা আসে, প্রায় সমপরিমাণ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে আসে। যদি সব টাকা বৈধ পথে আসত, তবে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অনেকটাই কমে যেত। তাই প্রবাসীদের জন্য বৈধ চ্যানেলকে সহজ ও আকর্ষণীয় করাই এখন জরুরি।
logo-1-1740906910.png)