প্রবাসী অর্থনীতির খবর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রেমিট্যান্সে ছোট ভুল, বড় ঝুঁকি: প্রবাসীদের সতর্কবার্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭
বাংলাদেশে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে দেশে টাকা পাঠান। অধিকাংশ লেনদেনই বৈধ ও স্বচ্ছ হলেও কিছু সাধারণ অভ্যাস; যেমন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নগদ হস্তান্তর, অননুমোদিত চ্যানেল ব্যবহার বা প্রেরণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না রাখা মানি লন্ডারিং সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী, যদি কেউ অবৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থকে বৈধ দেখাতে লেনদেন করে বা তাতে সহায়তা করে, সেটাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনটি শুধু সরাসরি অপরাধীকে নয়, সেই লেনদেনে সহায়তা করা ব্যক্তিকেও দায়ী করতে পারে। ফলে প্রবাসীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন লেনদেনে জড়াতে পারেন, যেখানে তারা কেবল সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো আত্মীয় বা পরিচিতি যদি বিদেশে অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে অর্থ পায় এবং সেটি দেশে পাঠাতে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে যদি আপনি লেনদেনের উৎস যাচাই না করে থাকেন।
ব্যাংক ও রেমিট্যান্স সার্ভিসগুলোতে লেনদেন করার সময় সঠিক পরিচয়পত্র, প্রেরণের উদ্দেশ্য ও প্রাপ্তির প্রমাণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংকিং চ্যানেলে KYC (Know Your Customer) আপডেট না থাকলে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আটকে যেতে পারে এবং তদন্তের মুখে পড়তে হয়। অনলাইনে বা ক্যাশভিত্তিক অননুমোদিত চ্যানেল ব্যবহার করলে লেনদেন ট্রেস করা কঠিন হয়, যা সন্দেহ বাড়ায়।
আইনগত জটিলতা এড়াতে প্রবাসীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ জরুরি। প্রথমত, প্রেরণের আগে সব সময় আয়ের উৎস লিখিতভাবে সংরক্ষণ করুন- বেতন, ব্যবসা বা অন্যান্য বৈধ উৎসের প্রমাণ রাখুন। দ্বিতীয়ত, বড় অঙ্কের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে KYC আপডেট রাখুন এবং লেনদেনের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাখুন। তৃতীয়ত, তৃতীয় পক্ষের অনুরোধে নগদ হস্তান্তর বা অচেনা ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন। এসব সাধারণ সতর্কতা আপনাকে আইনি ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা করবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করলে তদন্ত শুরু করে; প্রমাণিত হলে জরিমানা, সম্পত্তি জব্দ বা কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি হতে পারে। তাই রেমিট্যান্সের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখা কেবল নৈতিক নয়, আইনগতভাবে অপরিহার্য। ব্যাংক ও রেমিট্যান্স সার্ভিসগুলোও নিয়মিতভাবে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট করে থাকে; গ্রাহক হিসেবে আপনারও দায়িত্ব রয়েছে সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং অনিয়ম দেখলে তা রিপোর্ট করা।
অবশেষে, প্রবাসীরা যদি নিয়মিতভাবে দেশে বড় অঙ্ক পাঠান বা ব্যবসায়িক লেনদেন করেন, তাহলে একজন আইনজীবী বা কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে সম্পদ ফেরত, বিনিয়োগ বা বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে উৎস-নথি, ট্যাক্স রেকর্ড ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত হলে তা আপনার পক্ষে শক্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
রেমিট্যান্সে সতর্কতা মানে কেবল কাগজপত্র রাখা নয়; এটি আপনার আর্থিক নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা। ছোট ভুলকে বড় সমস্যায় পরিণত হতে দেবেন না—স্বচ্ছতা, নথিপত্র সংরক্ষণ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চ্যানেল ব্যবহার করে রেমিট্যান্স করুন, যাতে আপনি এবং আপনার পরিবার নিরাপদে থাকতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)