Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

১৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদিফেরত রিজিয়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪

১৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদিফেরত রিজিয়া

দীর্ঘ ১৩ দিন পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা রিজিয়া বেগম। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামের এই নারীকে প্রথমে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাওয়া যায়। সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তাকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করেন। সেখানে তিনি ছিলেন প্রায় দুই সপ্তাহ।  

রিজিয়ার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো কথাও বলছিলেন না। ফলে তার পরিবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হন যে তিনি মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। এরপর ব্র্যাক তার পরিবারকে খুঁজে বের করে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ভুঞা, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম এবং এভসেক কর্মকর্তা মাহবুব আলম। তারা জানান, রিজিয়ার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এতটাই অসংলগ্ন ছিল যে তিনি নিজের পরিচয় জানাতে পারছিলেন না। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা ছিল এক স্বস্তির মুহূর্ত।  

রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে তার মা সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যান। সেখানে তিনি নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার হন। একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। ২০২১ সালের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ধরে নিয়েছিলেন রিজিয়া আর বেঁচে নেই। মঙ্গলবার মাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিজা।  

অনুষ্ঠানে সৌদি ফেরত আরেক নারী রিমা আক্তারও নিজের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে তাকে একাধিকবার বিক্রি করা হয় এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, রিজিয়া ও রিমার মতো নারীদের দুর্দশা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পরও তাদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নেই। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এগিয়ে এসে এমন নারীদের সহায়তায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

Logo