Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ফিরতে চায় পাকিস্তানের বাঙালিরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১

বাংলাদেশে ফিরতে চায় পাকিস্তানের বাঙালিরা

প্রায় তিন দশক আগে অল্প কয়েক দিনের জন্য পাকিস্তানে গিয়েছিলেন শাহ আলম। কিন্তু দুই দেশের তিক্ত সম্পর্ক ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি করাচিতে আটকা পড়েন। এখন ৬০ বছর বয়সী এই মানুষ শুঁটকি বিক্রি করে কোনোমতে জীবনধারণ করছেন। বাংলাদেশে তার মা-বাবা ও প্রথম স্ত্রী মারা গেলেও শেষ দেখা দেখতে পারেননি। জন্মভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তার চোখেমুখে স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমি যাবই। ঈদুল আজহার পর ছেলেকে নিয়ে অবশ্যই যাব।” দৈনিক সমকালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর গত মাসে ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে করাচিতে বসবাসরত বহু বাঙালির মনে নতুন আশার আলো জেগেছে। শাহ আলমের মতো অনেকেই বাংলাদেশে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন।  

পাকিস্তানে অনুমানিক ১০ লাখের বেশি বাঙালি বসবাস করছেন। অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের সময় সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে তারা শিক্ষা, ব্যবসা ও সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত। করাচির মাচ্ছর কলোনি ও অন্যান্য বস্তিতে বসবাসরত বাঙালিরা রাষ্ট্রহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

২০ বছর বয়সী হোসেন আহমেদ মাছের আড়তে কাজ করেন। তার কাছে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে যেতে চাই, কিন্তু আমার বাবারো কোনো পরিচয়পত্র নেই।” একইভাবে ২২ বছর বয়সী আহমেদ জানান, তার পরিবার ১৯৭১ সালের আগে থেকেই পাকিস্তানে বসবাস করছে। কিন্তু প্রমাণ দিতে না পারায় তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করা হয়েছে।  

বাঙালি অধ্যুষিত করাচির এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেশি। বাইরে বের হলে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। ফলে অনেকেই বস্তির বাইরে যেতে ভয় পান। রাষ্ট্রহীনতার কারণে তারা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না, এমনকি বাংলাদেশে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।  

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতা তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০১২ সালের পর প্রথম সরকারি সফরে গত আগস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা-ইসলামাবাদের সম্পর্ক উন্নতির পথে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

করাচির স্থানীয় রাজনীতিবিদ রফিকুল হোসেন বলেন, পাকিস্তানি বাঙালিরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। করাচি পৌরসভায় বাঙালি সম্প্রদায়ের সাতজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পাকিস্তানি বাঙালিদের জন্য বিরাট পরিবর্তন আনবে। এটি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং আগের মতো ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনবে।  

রাষ্ট্রহীন বাঙালিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও কষ্টের অবসান ঘটাতে এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। তারা জন্মভূমিতে ফিরতে চান, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে চান। ঢাকা-করাচি ফ্লাইট চালু হওয়া তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তবে নাগরিকত্ব সংকট সমাধান না হলে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না।

Logo