মাসিক নগদ সহায়তা ও নিত্যপণ্যে সুবিধা মিলবে কার্ডের মাধ্যমে। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ডেটাবেস তৈরি করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে। প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প চালু হবে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। তবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর। পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
এদিকে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ একাধিক উপদেষ্টা ও সচিব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। মাসিক নগদ সহায়তা ও নিত্যপণ্যে সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)