বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটে এবার ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের পাশাপাশি বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি। ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন আরও ১৫ লাখ ৩০ হাজার ভোটার।
৫৬টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই দেশজুড়ে ভোটারদের মধ্যে নীরব প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা রূপ নেয় সক্রিয় অংশগ্রহণে। তাদের মতে, এটি শুধু আরেকটি নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৭৮ জন। দেশজুড়ে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য আয়োজন হয়ে উঠেছে। কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে অংশগ্রহণকে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
কমনওয়েলথের বিবেচনায়, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আয়োজন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দেশের আটটি বিভাগে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সরাসরি ভোটের বিশাল আয়োজন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
logo-1-1740906910.png)