ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন, বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৪
ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর এই প্রভাব আরো গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা বলছেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নিয়মিতভাবে রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন। শেখ হাসিনার পতনের পর চীনা কোম্পানিগুলো শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হয়েছে। ক্রিকেট থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ পর্যন্ত নানা ইস্যুতে উত্তেজনা বেড়েছে। বাংলাদেশ আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে এবং ভিসা সুবিধা সীমিত করেছে। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বৈঠকও কমে গেছে।
বিএনপি ভারতের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, জনগণের স্বার্থই তাদের অগ্রাধিকার। বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।” অন্যদিকে জামায়াতের পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে সামনে আনা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দল এনসিপিও ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। প্রতি বছর প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়, যার ৯৫ শতাংশই চীনা পণ্যের আমদানি। অন্যদিকে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর নতুন চুক্তি স্থবির হয়ে আছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে আদানি গ্রুপের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষক কনস্টানটিনো জাভিয়ার বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সংকট থেকে চীন সরাসরি লাভবান হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমে যাওয়ায় চীন নিজেকে আরো বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের থমাস কিন মনে করেন, যদি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার চীনের সঙ্গে পূর্ণগতিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।
বাংলাদেশ এখন এক জটিল ভূরাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চীনের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। আসন্ন নির্বাচন ও নতুন সরকার এই ভারসাম্য রক্ষায় কতটা সক্ষম হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
logo-1-1740906910.png)