সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশও
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩
ভারতের হিমালয় কন্যা সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অন্তত আট থেকে দশবার কম্পনে কেঁপে উঠেছে গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। এই সিরিজ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি ও মাঙ্গান এলাকায়। ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। এরপর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি কম্পন এবং ভোর ৩টা ৩১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার আরো একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরো পাঁচ থেকে ছয়টি ছোট আকারের আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ার কারণে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে। নীলফামারীর এক বাসিন্দা জানান, তিনি বিছানায় ছিলেন, হঠাৎ মনে হচ্ছিল ঘর ভেঙে পড়বে। পরে বুঝতে পারেন ভূমিকম্প হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত। বড় কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান কেঁপে ওঠে। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়।
ক্রমাগত ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতা বাংলাদেশেও ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
logo-1-1740906910.png)