Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঢাকার বিমানবন্দরে বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯

ঢাকার বিমানবন্দরে বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী চলাচল ক্রমেই বাড়ছে। বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। এর আগের বছর ২০২৪ সালে যাত্রী সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ। এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার, যা প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ। মূলত আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন।  

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট যাত্রীদের মধ্যে ১ কোটি ৩১ হাজার ২০০ জন আন্তর্জাতিক রুটে এবং ২৪ লাখ ১১ হাজার জন অভ্যন্তরীণ রুটে ভ্রমণ করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়, বিমানবন্দরটি বিদেশগামী যাত্রীদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে আরো প্রকট করে তুলেছে। বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর জন্য নকশা করা এই বিমানবন্দর এখন প্রায় দ্বিগুণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।  

বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু হয়নি। অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা না কাটায় প্রকল্পটি অচল অবস্থায় রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ২ কোটির বেশি যাত্রী সামলানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ভিআইপি সেবার ঘোষণা দেন। এর আওতায় দুটি লাউঞ্জ খোলা হয়েছে একটি টার্মিনালের ভেতরে এবং অন্যটি বহুতল গাড়ি পার্কিং ভবনে।  

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি কিছুটা কমেছে। সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি, অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু এবং লাগেজ বহনকারীদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ এ উন্নতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যয় কমানো এবং তাদের সম্মান নিশ্চিত করাই এখনো প্রধান অগ্রাধিকার।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ বলেন, বিদ্যমান সক্ষমতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জট ও ট্রলি সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।  

তবে বিমান ভাড়া এখনো চড়া। ট্রাভেল এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে টিকিটের দাম ৩৫-৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এখন ৭৫-৮০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। আসন সংকটই মূল সমস্যা বলে মনে করছেন এজেন্টরা।

Logo