Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

টানা ছয় মাস কমলো রপ্তানি; ভরসা প্রবাসী আয়

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২

টানা ছয় মাস কমলো রপ্তানি; ভরসা প্রবাসী আয়

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে টানা ছয় মাস ধরে আয় কমছে। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে আয় বেড়েছে ১১ শতাংশ। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪১ কোটি ডলারের কিছু বেশি, যেখানে ডিসেম্বর মাসে আয় ছিল ৩৯৭ কোটি ডলার।  

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ সাত মাসে আয় কমেছে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার।  

প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও আয় কমেছে। সাত মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। নিট পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে এককভাবে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।  

তবে কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ, ওষুধের রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৬ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্যে ১২ শতাংশ এবং হোমটেক্সটাইল খাতে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।  

রপ্তানি খাতের সংকটের কারণ হিসেবে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক ক্রেতা সময়মতো পণ্য বুঝে পেতে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ফলে তারা অর্ডার কমাচ্ছেন বা স্থগিত করছেন। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে। মৌলিক পোশাকের ওপর শুল্কভার এখন ৩৬ শতাংশ, যা ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমছে। একই সঙ্গে ইউরোপ, চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।  

মোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ কবীর বলেন, মৌলিক পোশাকের ভোক্তারা এখন সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। এতে সাধারণ পোশাকের চাহিদা কমছে। ফলে কারখানাগুলো সংকটে পড়েছে।

এদিকে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। রপ্তানি আয় টানা ছয় মাস ধরে কমলেও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বজায় থাকছে। এই প্রবৃদ্ধি শুধু রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে না, বরং আমদানি ব্যয় মেটানো, ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে। অর্থনীতির সংকটময় সময়ে প্রবাসী আয় দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।

Logo