শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ: সম্ভাবনা নাকি জটিলতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০
বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরে মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকেন্দ্রিক। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গত ৫০ বছর ধরে শ্রম অভিবাসন চলমান, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭৭ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। তবে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে অনীহা দেখান। অচেনা দেশে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ার প্রবণতা, পরিবারকেন্দ্রিক মানসিকতা এবং পরিচিত পরিবেশে থাকার অভ্যাস এর বড় কারণ।
ইতালি, স্পেন বা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী অভিবাসনের অভিজ্ঞতা দেখলে বোঝা যায়, একবার কোনো অঞ্চলের মানুষ সেখানে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে পুরো এলাকার পরিবারগুলো অভিবাসনে যুক্ত হয়। ফলে অভিবাসন বিস্তৃত হয় পরিচিত গণ্ডির ভেতরেই। নতুন দেশ বা নতুন খাতে শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ তাই সহজাতভাবে হয় না।
তবে অর্থনীতি ও বেকারত্ব মোকাবিলায় শ্রম অভিবাসনের দেশ ও খাত সম্প্রসারণ একটি বড় কৌশল হতে পারে। কারণ, কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে লাখ লাখ মানুষ গিয়েছেন, কিন্তু নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ সীমিত। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলো দক্ষতা ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ করছে। ফলে বাংলাদেশি অভিবাসীরা অনেক সময় অনুমতিবিহীন অবস্থান বা অনিয়মিত কাজের কারণে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরকারি দপ্তর ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো দীর্ঘমেয়াদি কোনো কর্মকৌশল অনুসরণ করছে না বলে সমালোচনা রয়েছে। নতুন কারিগরি দক্ষতা অর্জন, সম্ভাবনাময় দেশে শ্রমবাজার খোঁজা বা প্রবাসী মিশনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ সীমিত। অনেক সময় প্রতিবেদন তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ জটিল নয়, বরং কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে তা বাস্তবসম্মত। এজন্য স্থায়ীভাবে একটি শ্রমবাজার গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে এই কেন্দ্র পরিচালনা করলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। গবেষণার ভিত্তিতে যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণ চালু করা এবং সম্ভাবনাময় দেশে নতুন মিশন খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
গ্রাম পর্যায়ে জনগণের কাছে নতুন দেশ ও পেশা সম্পর্কে সহজ ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া দরকার। তথ্য ও সম্প্রচার, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকলে অভিবাসীরা নতুন বাজারে যেতে উৎসাহিত হবেন।
শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণকে জটিল ভাবা অবান্তর। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ সম্ভব। অন্যথায় বিদ্যমান বাজার সংকুচিত হয়ে যাবে, আর রেমিট্যান্স কমে গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে।
logo-1-1740906910.png)