Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সিলেট-সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠে সরব প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০০

সিলেট-সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠে সরব প্রবাসীরা

জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠে এবারো প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী দেশে এসে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। কেউ সরাসরি ভোট চাইছেন, কেউ আবার নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ মেটাচ্ছেন।  

সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবদুর রব। তিনি জানালেন, দেশে আসার পর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। একইভাবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আবুল হোসেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তাদের মতো আরো অনেক প্রবাসী ভোটের মাঠে সক্রিয়।

শুধু প্রচার নয়, মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে অর্ধশতাধিক প্রবাসী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি থেকে তিনজন প্রবাসী মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশও আসছে প্রবাসীদের কাছ থেকে। সিলেটের ছয়টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী রয়েছেন, এর মধ্যে ১৭ জন হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের একটি অংশ প্রবাসী স্বজন বা শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে আসছে।  

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর সম্ভাব্য ব্যয় ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন তিনি। বাকি ৫০ লাখ টাকা আসছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুন নূর ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ২২ লাখই পেয়েছেন প্রবাসী আত্মীয়দের কাছ থেকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামও ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ পাচ্ছেন প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে।  

সিলেটের মতো সুনামগঞ্জেও প্রবাসীদের প্রভাব স্পষ্ট। সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশই আসছে প্রবাসীদের কাছ থেকে। জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের উপস্থিতি বেশি। জগন্নাথপুরের আটটি ইউনিয়নের মধ্যে গত নির্বাচনে পাঁচটিতে প্রবাসী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। এবারো সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাতজনের মধ্যে চারজনই প্রবাসী।  

বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। তার আত্মীয়স্বজনও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরীর নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলে ও ভাইবোনের কাছ থেকে। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তার পক্ষে ৩০ জনের বেশি প্রবাসী দেশে এসে কাজ করছেন।  

স্থানীয়রা বলছেন, প্রবাসীরা শুধু ভোট দিতে বা প্রচারে অংশ নিতে আসেন না, তারা সামাজিক ও মানবিক কাজেও অর্থ ব্যয় করেন। ফলে এলাকায় তাদের প্রভাব থাকে। স্থানীয় রাজনীতিকেরা মনে করছেন, এবার পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ থাকায় প্রচারের আমেজ ততটা দৃশ্যমান নয়। তবে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া, উঠান বৈঠক ও ছোট ছোট সভার মাধ্যমে প্রচার চলছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে প্রবাসীদের উপস্থিতি শুধু প্রচার নয়, অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের অংশগ্রহণ ভোটকে উৎসবে রূপ দিচ্ছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবাসীদের প্রভাবকে আরো স্পষ্ট করে তুলছে।

Logo