নির্বাচন ঘিরে যাত্রা শুরু প্রবাসীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইলেকশন ওয়াচ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার, গণমাধ্যম কাভারেজ এবং জনপরিসরে রাজনৈতিক যোগাযোগ পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন ওয়াচ। সংস্থাটির মূল টিম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষকদের নিয়ে গঠিত হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া তথ্যপ্রবাহ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ পরিবেশকে গবেষণাভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রচারণার ভাষা ও বার্তা, মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যাচাইকৃত নাগরিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনী তথ্য কীভাবে তৈরি, প্রচার ও গ্রহণ করা হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
জনসাধারণ এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের একটি সুরক্ষিত ও বেনামি রিপোর্টিং ফর্মের মাধ্যমে নির্বাচন যোগাযোগ-সম্পর্কিত তথ্য বা অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। জমা দেওয়া তথ্য ধাপে ধাপে যাচাই করা হবে। প্রশিক্ষিত গবেষকরা প্রমাণ পরীক্ষা করবেন এবং শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্যই প্রকাশ করা হবে। কোনো অযাচাইকৃত অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশ করা হবে না; বরং সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ ইলেকশন ওয়াচের আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. আশরাফুল গনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ভোট গণনা বা নির্বাচন পরিচালনা পর্যবেক্ষণ নয়। আমরা দেখছি কীভাবে প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে, গণমাধ্যম কীভাবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের তুলে ধরছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের বয়ান তৈরি হচ্ছে এবং এসব বিষয় জনআস্থা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে কীভাবে প্রভাব ফেলছে।”
নির্বাচনী পরিবেশের সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনায় রেখে গবেষক ও সহযোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। নির্বাচন শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর টিম সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে।
নির্বাচন শেষে বাংলাদেশ ইলেকশন ওয়াচ একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এতে যাচাইকৃত নাগরিক অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যমে সম্ভাব্য পক্ষপাত বা পক্ষপাতিত্ব বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংস্থা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ইলেকশন ওয়াচের এই উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক যোগাযোগের স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মান যাচাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)