ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশে বসেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৩ জন ভোটদান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকঘর বা ডাক বাক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ১৯ হাজার ৩৮৮টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
ইসি জানায়, মোট ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১২২ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণকারী প্রবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৬। প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ফলে এই ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক দলগুলো প্রবাসীদের ভোট আদায়ে বিশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে ইসি। এ ক্ষেত্রে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কয়েদিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পাওয়ার পর দ্রুত ভোট দিয়ে ফেরত পাঠাতে হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের পাশে প্রার্থীর নাম থাকবে। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছতে হবে। এর পর পৌঁছলে তা গণনা করা হবে না।
২৬ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। বৈঠকে কূটনীতিকরা জানতে চান ভোটের ফল কখন ঘোষণা হবে। জবাবে ইসি সচিব বলেন, কেন্দ্রের ফল তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে। তবে প্রবাসীদের ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে। কারণ, তাদের ব্যালট পেপার বড় আকারের এবং দুই পাশে ছাপা। প্রতিটি ভোট ম্যানুয়ালি স্ক্যান করতে হবে, যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। ফলে গণনার সময় নির্ভর করবে কত ভোট এসে পৌঁছেছে তার ওপর।
সব মিলিয়ে, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ভোট বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। এটি শুধু ভোটের পরিসর বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে আরো বিস্তৃত করছে।
logo-1-1740906910.png)