গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশকে সমর্থন ভারতের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি মনে করেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের সহায়ক এবং আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করার জন্য যথাযথ অবস্থানে রয়েছে।
রাজধানীর এক হোটেলে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের এই যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ভার্মা বলেন, ঢাকা ও দিল্লি ভবিষ্যৎমুখী সহযোগিতা চায়। এই অংশীদারিত্ব বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একটি বিশেষ সম্পর্ক ভাগ করে নেয়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌথ আত্মত্যাগের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথাও উল্লেখ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য দুই দেশের সংস্কৃতিকে যুক্ত করেছে। পাশাপাশি সংগীত, শিল্পকলা, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের যৌথ ঐতিহ্যও রয়েছে।
ভার্মা আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসারকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভারতের একটি রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল সরবরাহকারী সীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সীমান্ত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তঃনির্ভরতার সুফল প্রমাণ করছে।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্ব দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসার জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে। ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর গড়ে তুলতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও যৌথভাবে কাজ করা যাবে।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আজ আমরা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে একত্রিত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি। তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
logo-1-1740906910.png)