Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দেওয়ায় বাংলাদেশের আপত্তি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দেওয়ায় বাংলাদেশের আপত্তি

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ ও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উপস্থাপনের মিয়ানমারের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২৩ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ধরনের বানোয়াট আখ্যান রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধ ও জাতিগত নিধনকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।  

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করা আসলে তাদের পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার পরিকল্পনার অংশ। ২০১৬-১৭ সালে সংঘটিত পাশবিক নির্যাতন থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতে এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমার এই বিতর্কিত নামকরণ ব্যবহার করছে। অথচ ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের “বার্মার বৈধ বাসিন্দা” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।  

২০২৩ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমার দাবি করেছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে জানায়, তৎকালীন ১৭ লাখ জনসংখ্যার রাখাইনে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। মিয়ানমারও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। বাংলাদেশের মতে, এসব দাবি মূলত নিজেদের দায় এড়ানো এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, মিথ্যা আখ্যান তৈরি আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা। রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি না করা এবং আট বছর ধরে প্রত্যাবাসন পিছিয়ে দেওয়া ২০১৭-১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রকৃত অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।  

ঐতিহাসিকভাবে রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী। ১৭৮৫ সালে বার্মান সাম্রাজ্যের অংশ হওয়ারও কয়েক শতাব্দী আগে থেকে তারা আরাকানে বসবাস করে আসছে। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী ‘ম্রো-হং’ বা ‘রোহাং’-এ তাদের দীর্ঘ উপস্থিতির কারণেই তারা ‘রোহিঙ্গা’ নামে পরিচিত। ঔপনিবেশিক জনতাত্ত্বিক বিবরণ এবং স্বাধীন বার্মার শুরুর দিকের নথিপত্র প্রমাণ করে, তাদের শিকড় রাখাইনের মাটির গভীরে প্রোথিত। ১৯৪২ সালের নাগরিকত্ব আইনের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বার্মার রাজনীতি ও সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।

Logo