Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, নানা দেশের শর্তে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, নানা দেশের শর্তে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিদেশে ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধ করেছে। এতে পরিবার নিয়ে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে অনেকের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জামানত।  

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের সংখ্যা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপালও তালিকায় রয়েছে। তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা নেই।  

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি পাসপোর্টের ওপর আলাদা নজরদারি শুরু হয়েছে। নেপাল ও মালদ্বীপের বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের অতিরিক্ত জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। মিসর অন অ্যারাইভাল ভিসায় নতুন শর্ত যোগ করেছে।  

গত দুই বছরে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা জটিলতা বেড়েছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মিসরসহ অনেক দেশ ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে বেশি হারে। ভিয়েতনাম পুরোপুরি ভিসা বন্ধ করেছে, ইন্দোনেশিয়া সীমিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ হওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশের ভিসা প্রক্রিয়ায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ এসব দেশের ভিসা দিল্লি থেকে ইস্যু হয়।  

নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, অনেক আবেদনকারী পড়াশোনার অজুহাতে ভিসা নিয়ে সেখানে থাকতে চান। এজন্য তারা ভিসা স্ক্রিনিং কঠোর করেছে। ব্র্যাকের শরিফুল হাসান বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে যে তারা দেশে থাকতে চায় না। ফলে বৈধ আবেদনকারীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে ঢাকা বা অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। তবে সময় ও ব্যয়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি।  

২০১২ সালে বাংলাদেশিদের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয়। এখন শুধু 'স্কিল ভিসা' চালু আছে। প্রধান উপদেষ্টা দুই দফায় অনুরোধ করলেও আমিরাত সরকার সাড়া দেয়নি।  

অস্ট্রেলিয়া গত বছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়ালেও এবার দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। ফলে ভিসা স্ক্রিনিং কঠোর হবে।  

বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করলেও ৯০ শতাংশ গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাইয়ে শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়া দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও চালু করা যায়নি।  

বায়রার নেতা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যই এখন সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। অন্য বাজারগুলো বন্ধ। সৌদিতেও আকামা সমস্যায় অনেকে অবৈধ হয়ে পড়ছেন।"  

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. মো. জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, "বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। ফলে ভবিষ্যতের বাজার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।"

Logo