Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঢাকার বিমানবন্দরের হাইটেক ই-গেট বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১

ঢাকার বিমানবন্দরের হাইটেক ই-গেট বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টধারীদের দ্রুত ইমিগ্রেশন সুবিধা দিতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে স্থাপন করা ৪৪টি হাইটেক ই-গেট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত না হওয়ায় যাত্রীদের আবারো ম্যানুয়াল লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে সময় বাড়ছে, ভোগান্তি বাড়ছে এবং প্রশ্ন উঠছে পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিয়ে। 

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে অনুমোদিত “বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা” প্রকল্পের আওতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ ই-গেট সরবরাহ ও স্থাপন করে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকায়। শুধু ই-গেট স্থাপনে খরচ হয়েছে ৩৪.৫ কোটি টাকা। প্রতিশ্রুতি ছিল, প্রতিটি যাত্রী মাত্র ১৮ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে এখন সব যাত্রীকে হাতে হাতে ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করতে হচ্ছে।  

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬টি, চট্টগ্রামে ৬টি, সিলেটে ৬টি, বেনাপোলে ৪টি এবং বাংলাবান্ধায় ২টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে বড় বিমানবন্দরগুলোতে এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ই-গেট চালু না থাকায় অপেক্ষার সময় দ্বিগুণ হয়েছে। সিঙ্গাপুরগামী লিটন কবির বলেন, “ই-পাসপোর্ট ছিল জাতীয় স্বপ্ন। অথচ এখনো ম্যানুয়াল লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জনগণের টাকা নষ্ট হলো, আর আমরা ভোগান্তিতে পড়লাম।”  

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ই-গেটের বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি শুধু পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে পারে, কিন্তু ভিসা বা গন্তব্যের তথ্য যাচাই করতে পারে না। ফলে যাত্রীদের আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে গিয়ে ভিসা পরীক্ষা করাতে হয়। এতে সময় কমার বদলে আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় ই-গেটের তথ্য ইমিগ্রেশন সফটওয়্যারের সঙ্গে মিলেও না। এসব কারণে সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, ই-গেট দিয়ে শুধু পাসপোর্ট যাচাই করা যায়, ভিসা নয়। তাই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এখন হাতে হাতে করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সমস্যার সমাধান হলে আবার চালু করা যাবে।  

বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, এত বড় প্রকল্পে এমন সীমাবদ্ধতা কীভাবে উপেক্ষা করা হলো তা প্রশ্নবিদ্ধ। “যদি যাত্রীরা সেবা না পান, তবে প্রকল্প ব্যর্থ। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে এই সিস্টেম সফলভাবে চলছে। বাংলাদেশেও তা চালু করতে প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।”  

সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সীমান্তবর্তী বেনাপোলে চারটি ই-গেট এখনো চালু রয়েছে।  

বাংলাদেশ ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করে। ইতোমধ্যে লাখ লাখ নাগরিক ই-পাসপোর্ট পেয়েছেন। কিন্তু ই-গেট কার্যকর না থাকায় দ্রুত ও সম্মানজনক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, আর জনসাধারণের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Logo