লাভজনক ম্যানচেস্টার রুট স্থগিতে ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮
লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ১ মার্চ থেকে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। এতে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে বসবাসরত লাখো সিলেটেি প্রবাসীর দেশে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
২০১২ সালে উড়োজাহাজস্বল্পতার কারণে প্রথমবার এই রুট বন্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর পর প্রবাসীদের দাবির মুখে ২০২০ সালের শুরুতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়। সরাসরি যাতায়াতের সুবিধার কারণে রুটটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং লাভজনক হয়ে ওঠে। কিন্তু চালুর পাঁচ বছর না যেতেই আবারো স্থগিতের ঘোষণা আসায় প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, এটি কোনো বাণিজ্যিক ব্যর্থতার কারণে নয়। হজ অপারেশন, বহর সংকট এবং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ‘অপারেশনাল সমন্বয়’ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, হজ মৌসুমে বিপুলসংখ্যক বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। এজন্য কিছু রুটের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকে না।
তবে প্রবাসীরা বিমানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। এনআরবি সোসাইটি ইউকের নেতারা বলেন, ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধ হলে বার্মিংহাম, নিউক্যাসল, সান্ডারল্যান্ড, গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও স্কটল্যান্ডের সিলেটি প্রবাসীরা বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়বেন। সংগঠনের পরিচালক মোহাম্মদ আহমদ জুনেদ বলেন, হজ অপারেশনের জন্য লাভজনক রুট বন্ধ করার কোনো যুক্তি নেই। প্রয়োজনে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া যেত।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, হজ মৌসুমে এক লাখের বেশি যাত্রী পরিবহনের চাপ সামাল দিতে গিয়ে একাধিক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পুরোপুরি হজ অপারেশনে নিয়োজিত থাকে। ফলে দীর্ঘপথের রুটে ফ্লাইট কমানো ছাড়া উপায় থাকে না। মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় সেগুলোতেই বহর ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিমানের ২১টি উড়োজাহাজের কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় সচল বিমানের সংখ্যা কমে গেছে। ইউরোপীয় রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় অতিরিক্ত পাইলট ও কেবিন ক্রুর প্রয়োজন হওয়ায় জনবল সংকটও দেখা দিয়েছে।
বিমানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি ৭৮৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে। কার্গো পরিবহন ও যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। এ অবস্থায় লাভজনক ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ করাকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ইউরোপীয় রুটগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বারবার রুট বন্ধ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বহর ও ক্রু সংকট কাটলে ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে আপাতত প্রবাসীদের লন্ডন রুট বা বিকল্প এয়ারলাইন্স ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)