Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে রাজনৈতিক দলে অবিশ্বাস

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে রাজনৈতিক দলে অবিশ্বাস

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানা বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, রাজনৈতিক দলের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যাখ্যা মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট চালু করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় বাহরাইনের একটি বাসায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট খোলা ও গণনা করা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।  

বিএনপি অভিযোগ করেছে, এসব ঘটনায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকতে পারে। তারা দাবি করেছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট কারচুপির চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালটের প্রস্তুতি, প্রেরণ ও ব্যবহার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে। তিনি ইসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তার মতে, এ ধরনের অনিয়ম নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।  

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, বিএনপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের দাবি, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে কোনো কারচুপির সুযোগ নেই।  

ইসি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বাহরাইনে একই ঠিকানায় বিপুল সংখ্যক ব্যালট পৌঁছানোর ঘটনা স্থানীয় ডাক ব্যবস্থার কারণে হয়েছে। বাংলাদেশ পোস্টাল বিভাগ আন্তর্জাতিক ডাক সংস্থা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (UPU)-এর মাধ্যমে ব্যালট পাঠাচ্ছে। ফলে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং এটি ডাক ব্যবস্থার ভিন্নতার কারণে ঘটেছে।  

ইসি আরো জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস ও মিশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন চালু করা হবে, যাতে ভোটাররা সরাসরি পরিচয় নিশ্চিত করে ব্যালট গ্রহণ করতে পারেন।  

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, বিদেশে বসে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। আবার কেউ দাবি করছেন, প্রবাসীদের ভোটকে কেন্দ্র করে বিদেশি শক্তিও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।  

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এসব ভিডিওর মধ্যে কিছু ভুয়া এবং কিছু বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন। তবে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে ভোট জালিয়াতি হচ্ছে।  

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, তারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে বিতর্ক ও অভিযোগের কারণে অনেকেই শঙ্কিত। মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা ব্যালট হাতে পেয়েছেন। ভুল ঠিকানার কারণে কিছু ব্যালট ফেরতও এসেছে।  

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হলেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও এবং ইসির ব্যাখ্যা মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, প্রক্রিয়াটি এখনো পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি।  

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলে তাদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। তবে যদি অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দেশের ভাবমূর্তি ও শ্রমবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে পোস্টাল ব্যালট নতুন অধ্যায়। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত বিতর্ক, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও রাজনৈতিক অভিযোগ প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তুলছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে।

Logo