Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অনলাইনে কর প্রদানে প্রবাসীদের হিড়িক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩

অনলাইনে কর প্রদানে প্রবাসীদের হিড়িক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা বিদেশ থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং কর পরিশোধ করেছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন প্রবাসী করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন দিচ্ছেন। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ই-মেইলে পাঠানো ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন নিয়েছেন। দৈনিক প্রথম আলো ১৩ জানুয়ারি এ নিয়ে প্রকাশ করেছে একটি প্রতিবেদন।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে যারা রিটার্ন দিতে চান, তারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি), ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য এনবিআরের নির্দিষ্ট ই-মেইলে পাঠান। এরপর এনবিআর থেকে আবেদনকারীর ই-মেইলে ওটিপি ও নিবন্ধন লিংক পাঠানো হয়। এভাবে তারা সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। 

১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা ইতোমধ্যেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।  

এ বছর সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ছাড় দেওয়া হয়েছে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনি প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের। এনবিআর বলছে, যাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তারাও অনলাইনে রিটার্ন দিচ্ছেন।  

করদাতাদের সুবিধার জন্য সরকার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।  

করদাতাদের প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক করা মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তি রসিদ পাওয়া যাবে।  

অনলাইনে রিটার্ন দিতে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে যেসব তথ্য দেওয়া হবে, সেগুলোর দলিল সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা প্রয়োজনে এসব দলিল দেখাতে হতে পারে। করদাতারা ঘরে বসেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

রিটার্ন জমার সময় বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল, শেয়ারের লভ্যাংশের ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট ইত্যাদি তথ্য প্রয়োজন হয়।  

বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলে জীবন বীমার প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্যৎ তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বীমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদও জমা দিতে হয়।

Logo