Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসীদের জন্য শরিয়াভিত্তিক ঋণ চালু করতে যাচ্ছে সরকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৪

প্রবাসীদের জন্য শরিয়াভিত্তিক ঋণ চালু করতে যাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য শরিয়াভিত্তিক ঋণ প্রদানের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ চালু হবে খুব শিগগির। আইন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই শরিয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহর অনুপ্রেরণায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শরিয়াভিত্তিক ঋণ আসলে কী?

শরিয়াভিত্তিক ঋণে কোনো সুদ নেই। ইসলামি ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, এখানে মুনাফা নির্ধারিত হয় পণ্য বা সেবার লেনদেনের মাধ্যমে। সাধারণত ‘মুরাবাহা’, ‘ইজারা’ বা ‘মুশারাকা পদ্ধতিতে এই ঋণ দেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যাংক সরাসরি টাকা না দিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বা পণ্য কিনে দেয়, পরে নির্ধারিত কিস্তিতে গ্রাহক তা পরিশোধ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামি ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থায় সুদের ঝুঁকি থাকে না এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বৈধ ও গ্রহণযোগ্য।

এই ঋণ ব্যবস্থা প্রবাসীদের কীভাবে উপকারে আসবে?

অনেক প্রবাসী সুদের কারণে ব্যাংক ঋণ নিতে চান না। ফলে বিদেশে যেতে বা কর্মসংস্থান ধরে রাখতে তারা দালাল বা উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভর করেন। শরিয়াভিত্তিক ঋণ চালু হলে প্রবাসীরা বৈধ, স্বচ্ছ ও কম ঝুঁকির অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।

এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে বিদেশে যেতে প্রয়োজনীয় খরচ, ভিসা নবায়ন, টিকিট, প্রশিক্ষণ বা দেশে ফিরে ছোট ব্যবসা শুরু করার মতো কাজে। এতে প্রবাসীদের আর্থিক চাপ কমবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াভিত্তিক ঋণ চালু হলে এটি শুধু একটি নতুন ব্যাংকিং পণ্য নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক অর্থনৈতিক সহায়তার একটি বড় পদক্ষেপ হবে।

সরকার বলছে, বিস্তারিত নীতিমালা ও আবেদন প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই জানানো হবে। প্রবাসীদের জন্য অপেক্ষা এখন শুধু বাস্তবায়নের।

Logo