দেশের মানি-চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়নের ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন নবায়ন ফি ছিল ৫ হাজার টাকা, এখন থেকে তা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে অনুমোদিত ডিলার এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি-চেঞ্জারদের কাছে পাঠিয়েছে। নতুন নির্দেশনা ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০০২ সালে সর্বশেষ লাইসেন্স নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক ধরে একই ফি কার্যকর ছিল। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবার নবায়ন ফি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মানি-চেঞ্জারদের প্রতি বছর একবার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। লাইসেন্স ছাড়া তারা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে পারে না। ফলে নবায়ন ফি বৃদ্ধি মানি-চেঞ্জারদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ হলেও এটি রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ ফি বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি মানি-চেঞ্জারদের ব্যবসায়িক খরচের একটি অংশ মাত্র। রেমিট্যান্সের মূল প্রবাহ নির্ভর করে প্রবাসী আয়, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার এবং প্রবাসীদের আস্থার ওপর।
তবে কিছু মানি-চেঞ্জার মনে করছেন, ফি বৃদ্ধির কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা সীমিত মূলধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করবে। যদিও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এটি তেমন প্রভাব ফেলবে না।
অর্থনীতিবিদরা আরো বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হলে লাইসেন্স নবায়ন ফি বাড়ানোর পাশাপাশি মানি-চেঞ্জারদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। বৈধ চ্যানেল ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে প্রবাসীদের জন্য আরো সুবিধা দেওয়া উচিত।
logo-1-1740906910.png)