রেমিট্যান্সের প্রভাবে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে ব্যাংক আমানতের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা।
অক্টোবর শেষে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি স্থবির থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “আমানত প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে রেমিট্যান্স ফ্লো। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ খুব ভালো ছিল। ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ডলার আসে, তার বিপরীতে পাওয়া টাকা ব্যাংকিং খাতেই জমা হয়।” তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনো স্থবির, ফলে দেশীয় আয়ের মাধ্যমে আমানত বাড়ছে না।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা ২ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো নগদ টাকা পাচ্ছে, যা বাজারে লিকুইডিটি বাড়াচ্ছে এবং আমানত প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করছে।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান-উজ জামান বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে, এতে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের কারণে কিছু আমানত ওই ব্যাংকে স্থানান্তর হয়েছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ধীরে ধীরে নগদ অর্থ আবার আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে।
logo-1-1740906910.png)