২১ জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকার ভিসা আবেদনে যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্ত- ভিসা বন্ড। এই বন্ডের পরিমাণ হতে পারে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
কাকে কত টাকা বন্ড দিতে হবে, সেটি কীভাবে জানবেন?
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় কনস্যুলার অফিসারই জানিয়ে দেবেন, আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে কিনা এবং কত টাকা দিতে হবে। আর যদি বন্ড দিতে বলা হয়, সেটি সাধারণত ভিসা অনুমোদনেরই ইঙ্গিত।
এই বন্ড কোন ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
এই নিয়ম মূলত বি-১ ও বি-২ ভিসার জন্য, যা ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা নামে পরিচিত। তবে শুধু বন্ডই নয়, এই ভিসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু কঠোর শর্ত। কিন্তু সেগুলো কী কী?
বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বের হতে হবে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে; সেগুলো হলো বস্টনের লগান, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং ওয়াশিংটনের ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখন প্রশ্ন আসে, এসব নিয়ম ভাঙলে কী হতে পারে? নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোথাও দিয়ে ঢোকা বা বের হওয়া হলে সেটিকে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে ধরা হবে। এতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভ্রমণের সময়সীমা না মানা হলে?
যদি কেউ অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, দেরিতে দেশ ছাড়েন, অথবা আশ্রয় কিংবা অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলেও বন্ডের শর্ত ভাঙা হয়েছে বলে ধরা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
বন্ড দিলেই কি ভিসা নিশ্চিত?
এককথায় উত্তর- না। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড কোনোভাবেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। এমনকি কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কেউ যদি বন্ড জমা দেন, সেই টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই- এই নতুন নিয়মের জন্য ভ্রমণকারীরা কতটা প্রস্তুত?
নতুন ভিসা বন্ড ব্যবস্থা বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকা ভ্রমণকে আরো ব্যয়বহুল ও শর্তসাপেক্ষ করে তুলছে। তাই আবেদন করার আগে নিয়ম ভালোভাবে জানা ও সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
logo-1-1740906910.png)