Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বরফে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বরফে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় শঙ্কা

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষ, বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা এবং পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ আবারো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে এবং এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন জাতীয়তাবাদী চাপ সামলাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। সীমান্ত এলাকায় অনিয়মিত অভিবাসন ও চোরাচালান ঠেকাতে ভারতীয় বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।  

বাণিজ্য খাতেও উত্তেজনা বাড়ছে। ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু রপ্তানি পণ্যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যা ঢাকার কাছে বৈষম্যমূলক মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীসহ আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা সমাধান না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরো গভীর হচ্ছে।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সার্ক ও বিমস্টেকের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। সম্পর্ক আরো খারাপ হলে ঢাকা বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।  

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশের অর্থনীতিই এই উত্তেজনায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতের জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ট্রানজিট রুট থেকে লাভবান হয়। ফলে সম্পর্কের অবনতি হলে উভয় দেশই ক্ষতির মুখে পড়বে।  

আঞ্চলিক বিশ্লেষক মুজিব মাশাল মন্তব্য করেছেন, “সম্পর্ক এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। উভয় পক্ষ যদি আলোচনায় না বসে, তবে এই অবিশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নিতে পারে।”  

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জনমনে ভিন্ন ভিন্ন চাপ স্পষ্ট। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী কণ্ঠস্বর ভারতবিরোধী অবস্থান জোরদার করছে আর ভারতে বিরোধী দল সরকারকে সমালোচনা করছে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য।

Logo